অপরাধ চট্টগ্রাম

অস্ত্র হাতে অসহায় প্রতিবেশীর ওপর কথিত পীরের হামলা

(Last Updated On: জানুয়ারি ২৫, ২০২২)

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ফিল্মি স্টাইলে ভারী অস্ত্র হাতে নিয়ে এক অসহায় পরিবারের ওপর পীর এবং তার অনুসারীরা হামলা করে এক ব্যক্তি। অস্ত্র উছিয়ে হামলার ভিডিও এবং মহিলাদের উপর নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামসহ দেশজুড়ে তোলপাড় সমালোচনার ঝড় উঠে। এ ঘটনায় জড়িত পীরের শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। হামলার ঘটনায় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি ও হামলা লুটপাটের অভিযোগে মামলা করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোন আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, টিনের একটি দোচালা বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন নারী। এ সময় খোরশেদ উল্লাহ প্রকাশ খোকন ফকির অসহায় কিছু মহিলাদের উপর একটি লাঠি দিয়ে হামলা চালায় এবং গালিগালাজ করতে করতে এগিয়ে আসে এবং লাঠি দিয়ে তাদের পেটাতে থাকে। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি একে ৪৭ একটি ভারী অস্ত্র থাক করে গুলি করার হমুকি দেয়। এ সময় চারদিকে মানুষের কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। অস্ত্র বের করে গুলি করে হত্যা করলে থানা পুলিশ এবং কেউ কিছু করবে না বলে হুংকার দেন। গত ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের ওষখাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, ভিডিওতে অস্ত্র হাতে হুমকি দেয়া লোকটি হচ্ছে কথিত পীর সাহেব খোরশেদুল্লাহ ওরফে খোকন ফকির। ওষখাইন গ্রামে কাজী বাড়িতে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে মরহুম কাজী জালাল আহমেদের ছেলে আলাউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি পক্ষ। মরহুম মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুল হক প্রকাশ বিনী হুজুরের এতিম পাঁচ মেয়ের জায়গার ওপর নজর পড়ে তাদের। এর অংশ হিসেবেই ওইদিন বিনী হুজুরের পরিবারের সদস্যদের ওপর অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় তারা।

ওই সময় ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের পক্ষ নিয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন আক্কাস উদ্দিন, আবছার উদ্দিন নুরু ও রহিম। বিনী হুজুরের অন্তঃসত্ত্বা এক মেয়ে মারধরে আহত হলে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রয়েছে। কথিত পীর খোকন ফকির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে একাধিক যুবতী মহিলা এবং প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের মত জগন্য অভিযোগ, তার বর্তমানে একাধিক স্ত্রী রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। হামলার ঘটনায় আনোয়ারা উপজেলার মৃত কাজী জালাল উদ্দীনের পুত্র কাজী মোহাম্মদ আলাউদ্দীন বাদী হয়ে খোরশেদ উল্লাহ প্রকাশ খোকন ফকিরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে বাড়ি ঘর ভাংচুর, গাছপালা কেটে লুটপাট, অসহায় মহিলাদের নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।

এ বিষয়ে ফকিরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যে পক্ষের হয়ে গেছি তারাও গরীব অপর পক্ষও গরীব, তবে মহিলাদের গায়ে লাটি দিয়ে মারধর করার কথা তিনি স্বীকার করেছে, অস্ত্র হাতে নিয়ে হুমকি দেয়ার বিষয়টি সঠিক না বলে জানান তবে এলাকার কোন মানুষ আমার বিরুদ্ধে বলবে না, এডিট করে কেউ কেউ ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় পাল্টা পাল্টি মামলা হয়েছে, তদন্তে যেটা হওয়ার সেটা হবে।

অস্ত্র হাতে নিয়ে অসহায় মহিলাদের উপর নির্যাতনের ভিডিওটি দেখার পর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার লিগ্যাল এইডস কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিলুফা জাহান বেবী বলেন, মহিলাদের গায়ে হাত দেয়া গুরুতর অপরাধ। দ্রুত গ্রেফতার করে নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। 

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, একজন পীর অসহায় মহিলার ওপর যেভাবে অস্ত্র হতে নিয়ে মারধর, নির্যাতন করছে ভিডিওটি আমি দেখেছি, এটাকে কোনো অবস্থায় ভালো বলা যাবে না। এ ঘটনায় জড়িত যে হোক না কেন তার শাস্তি হওয়া দরকার বলে মনে করছি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ওসি দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, ভারী অস্ত্র হাতে অসহায় পরিবারের ওপর চড়াও হওয়া বা মহড়া দেয়ার ভিডিওটি আমরা দেখেছি। ইতোমধ্যে স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হয়েছে। ঘটনারমূল রহস্য জানার পর আমার জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

Hits: 69