জাতীয়

ইজ্জতের মূল্য লাখ টাকা!

(Last Updated On: জানুয়ারি ৭, ২০২১)

নওগাঁর রাণীনগরের বড়গাছা বাজারের হাট ঝাড়ু দেয়া এক মহিলার ইজ্জতের মূল্য লাখ টাকায় মিটমাট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু ভুক্তভোগীকে কোনো অর্থ না দিয়েই জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। হুমকি-ধমকির কারণে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ওই ভুক্তভোগী।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বড়গাছা বাজারের সাপ্তাহিক হাটের এক পাশে একটি কুড়ে ঘরে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছে বড়গাছা গ্রামের মৃত সাহাদত হোসেনের স্ত্রী (৪২)। তিনি প্রায় ৯ বছর যাতব বড়গাছা হাটখলা ঝাড়ু দিয়ে কোন মতে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। প্রায় ২ বছর আগে তার সঙ্গে পরিচয় হয় বড়িয়া গ্রামের মৃত সাহাদতের ছেলে আকনা-বাঁশবাড়িয়া মসজিদের ইমাম জাকিরুলের (৫০)। পরিচয়ের এক পর্যায়ে জাকিরুল ওই নারীকে বিয়েসহ নানা রকমের প্রলোভন দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক মেলামেশা করে আসে। ওই নারী জাকিরুলকে বারবার বিয়ে করার কথা বললে জাকিরুল নানা বাহানায় দিন পার করে। এক পর্যায়ে জাকিরুল তাকে ভয়ভীতি দেখায়। সম্প্রতি বিষয়টি ওই নারী তার কাছের মানুষদের জানালে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এরপর বিষয়টি মিটমাট করার কথা বলে বড়গাছা বাজারের ব্যবসায়ী ও হাট কমিটির সভাপতি জামালসহ কয়েকজন স্থানীয় নেতারা জাকিরুলের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা এবং গণমাধ্যকর্মীদের জন্য ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। এদিকে ভুক্তভোগীকে কোনো টাকা না দিয়েই ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই নারীর কাছ থেকে জোর করে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর গ্রহণ করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বড়গাছা বাজারের অনেকেই বলেন, সম্প্রতি বড়গাছা বাজারে বসে স্থানীয় নেতারা সুখেদার এই বিষয়টি মিটমাট করার জন্য ১ লাখ ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার জন্য ২০ হাজার টাকা রফাদফা করেছে। বড়গাছা বাজারে দরবার করেই এই বিষয়টি মিটমাট করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, আমি কোন টাকা পয়সা চাই না। জাকিরুল বিভিন্ন প্রলোভন দিয়ে আমাকে বিয়ে করার কথা বলে মেলামেশা করেছে। আমি গরীব ও অসহায় মানুষ। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। এই ঘটনার কারণে আমার একমাত্র ছেলে আমার সঙ্গে আর যোগাযোগ করছে না। আমি শুনেছি আমার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ কোনো টাকা দেয়নি। বরং কিছু ছেলেরা এসে আমার কুড়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। তারা আমাকে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমি এখন কি করবো?

এই বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ইমাম জাকিরুল হোসন পলাতক থাকার কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ হয়নি।

বড়গাছা হাট কমিটির সভাপতি ও ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, আমি এই বিষয়ে কোন কিছুই জানি না।

হাটের ইজারাদার প্রদ্যুত পাল বলেন, এই বিষয়টি আমি লোকমুখে শুনেছি। কিন্তু কোন পক্ষই এখনও বিষয়টি আমাকে জানায়নি।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন আকন্দ এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।