জাতীয়

উৎপাদনে ফিরলেও নির্দেশনা মানছে না অনেক পোশাক কারখানা

(Last Updated On: এপ্রিল ২৭, ২০২০)

তৈরি পোশাক খাতের কারখানা পুনারায় খোলার জন্য যেসব নির্দেশনা ছিল এসব অনেক কারখানাই এসব শর্ত মানছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কেউ কেউ আবার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, কেউ কেউ আমলেই নিচ্ছে না। আর অঞ্চল ভিত্তিক ধাপে ধাপে খোলার নির্দেশনা আমলেই নেওয়া হয়নি। ফলে কোথাও কোথাও শ্রমিকরা করোনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষোভ করেছে।

কারখানা খোলা ও ছুটির সময় শিথিল করা একই সঙ্গে যেসব কারখানা খুলেছে। ওইসব কারখানায় আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, স্থায়ী ডাক্তার, নার্সের ব্যবস্থা করা এবং স্বাস্থ্য সচেতনায় কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। 

কারখানা খুলে দেওয়ার দ্বিতীয় দিনে আজ সোমবার নতুন আরো প্রায় ৩৯৩ কারখানা উৎপাদনে ফিরেছে। এ নিয়ে দুই দিনে উৎপাদনে যুক্ত হওয়া কারখানার সংখ্যা প্রায় এক হাজার। প্রতি শিফটে ৩০ শতাংশ শ্রমিক কাজ করছে। তবে বকেয়ার দাবি এবং বিভিন্ন কারণে শ্রমিকরা কাজ করতে রাজি না হওয়ায় কোনো কোনা কারখানায় কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় কয়েকটি কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে।

জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা আমিরুল হক আমিন বলেন, সরকারের কোনো নির্দেশনা কারখানার মালিকরা মানেনি। প্রথম পর্যায়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের কারখানাগুলো খোলার কথা থাকলেও  উদ্যোক্তারা সাভার ও আশুলিয়া কারখানা খুলেছে। ফলের শ্রমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। 

আমিরুল হক আমিন আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল যেসব কারখানা রপ্তানি কাজ আছে এবং শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারবেন তারা কারখানা খোলবে। এখন গণহারে কারখানা খোলা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ আপ্রাণ চেষ্টা করছে। অনেক ছোট কারখানা মোটেও আন্তরিক নয়। তাই আমাদের পরামর্শ ছিল কিছুদিন পর খোলার।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, সোমবার শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। প্রায় সব কারখানায় শ্রমিকদের হাত ধোয়ার অস্থায়ী কলের ব্যবস্থা দ্বিগুন করা হয়েছে। নিরাপদ দূরত্ব মেনে এক জন এক জন করে শ্রমিককে কারখানায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। 

বিজিএমইএর গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ করছে উল্লেখ করে বিজিএমইএ সহসভাপতি এসএম মান্নান কচি বলেন, কারখানায় প্রবেশ মুখে শ্রমিকদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা, কারখানা ভবনের বাইরে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা জুতায় জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচেছ। পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে কারখানায়  প্রবেশের আগে জুতাগুলো  যেন পলিব্যাগে রেখে একটি নির্দিষ্ট স্থানে (সু র‌্যাক) রাখার কথা বলা হয়। এসব স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কিনা তা তদারক করতে মনিটরিং টিম গঠন করেছে বিজিএমইএ। 

শিল্পাঞ্চল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কারখানা খুলেছে ৭১৮টি। আগের দিন খোলার তালিকায় ছিল ৪৮০টি। সোমবার গাজীপুর, সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহ এলাকার আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে ১ হাজার ৮২০টি কারখানা খুলেছে। বিজিএমইএ বিকেএমইএ, বিটিএমএ ও বেপজার কারখানা মিলে সোমবার পর্যন্ত এক হাজার গার্মেন্টস কারখানা খুলেছে। বেতনভাতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অন্তত ২৯টি কারখানা শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বেতনভাতা ইস্যুতে ১৮টি কারখানায় এবং অন্যান্য ইস্যুতে আরো ১১টি কারখানা বিক্ষোভ হয়েছে।

Hits: 0