অপরাধ

দগ্ধ কিশোরী ফিরলো না জীবনে

(Last Updated On: নভেম্বর ৫, ২০১৯)

রান্নাঘরের আগুনে দগ্ধ কিশোরী  বৈশাখী বেগম (১৫) মৃত্যুর সাথে লড়াই করে হেরেই গেল। এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। চাঁদপুরের মতলব পৌর এলাকার এ কিশোরী ৩০ অক্টোবর রান্না করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল।

স্বজনরা জানান, কিশোরী বৈশাখী মতলব পৌরসভার ভাঙারপাড় গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের মেয়ে। দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জাহাঙ্গীর এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী। বাবার এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক অনটনে বন্ধ হয়ে যায় বৈশাখীর পড়াশোনা। ঘটনার দিন বৈশাখীর মা বাড়িতে ছিলেন না। বাবাসহ পরিবারের জন্য রান্না করতে যায় বৈশাখী। হঠাৎ সে অগ্নিদগ্ধ হলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। বৈশাখীর শরীরের ৮৫ ভাগ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান।

চাচা শরীফ প্রধান জানান, রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকেই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে বলে জেনেছি। এতেই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় বৈশাখী। মঙ্গলবার ভোরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে মারা যায় সে। বিকেলে মতলবে পৌঁছে তার মরদেহ। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়।

মতলব সরকারি জেবি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. কবির হোসেন জানান, বৈশাখী এবার জেএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। কিন্তু পারিবারিক কারণে কয়েক মাস আগে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। তার মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তাই ঘরে বাবা এবং ছোট তিন ভাইবোনকে সাহায্য করতে গিয়ে শেষপর্যন্ত তার স্কুলে ফেরা হয়নি।

মা শেফালী বেগম বলেন, ‘ মেয়েটা লেখাপড়ায় অনেক ভাল ছিল। আশা ছিল তাকে আবার স্কুলে পাঠাবো। এখন সবই শেষ।’

Hits: 9