জাতীয়

দলীয় প্রার্থীকে হারালো আওয়ামী লীগের ৮ বিদ্রোহী

(Last Updated On: জানুয়ারি ৩০, ২০২১)

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে হারিয়ে ৮ বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীও রয়েছেন একজন। বিদ্রোহী প্রার্থীর যোগ্যতার কাছে টিকতে পারেননি আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী। এ কারণে এখন আলোচনা চলছে- হয়তো শেষ পর্যন্ত এসব বিদ্রোহী প্রার্থীকে আর বহিষ্কার করা হবে না।

মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। বিজয়ী বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নেবে কেন্দ্র। নির্বাচনের আগে অবশ্য নগর আওয়ামী লীগ দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়াদের দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছিল।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা জানান, তারা তাদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন। নানা দিক থেকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের চাপে রাখা হয়েছিল। সব প্রতিকূলতাকে জয় করতে হয়েছে তাদের। বলতে গেলে বাধার পাহাড় ডিঙিয়ে তারা জয়ী হয়েছেন।

এ নিয়ে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা জানান, যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যর্থতার কারণে দলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। ভবিষ্যতে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন দেয়ার ক্ষেত্রে দলকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তারা।

ফলাফলে দেখা যায়, ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে জিতেছেন সাহেদ ইকবাল বাবু, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন। ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন সদ্য সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীম, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পাহাড়তলী থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আবছার মিয়া।

৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন হাসান মুরাদ বিপ্লব, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। ৩৬ নম্বর গোসাইলডাঙ্গা ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন মোরশেদ আলী, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন এসরারুল হক, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ।

২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ইলিয়াস (লাটিম প্রতীক), তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন। সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ডে নির্বাচিত হয়েছেন বিদ্রোহী প্রার্থী ফেরদৌস বেগম মুন্নী (আনারস)। আবার আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী প্রার্থী হেরেও গেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের তৌফিক আহমেদ চৌধুরী, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলীতে মোরশেদ আক্তার চৌধুরী, ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডে সাবের আহমেদ সওদাগর, ১৪ নম্বর লালখানবাজারে এফ কবির মানিক, ২৭ নম্বর দক্ষিণ আগ্রাবাদে এইচএম সোহেল এবং ২৮ নম্বর পাঠানটুলীতে আবদুল কাদের।

৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গিবাজার ওয়ার্ডে জয়ী বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লব বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। করোনাকালেও আমি মানুষের পাশে ছিলাম। নিজেও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। এলাকায় উন্নয়ন করেছি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম বলেই ভোটাররা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন।’

৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে জয়ী সদ্য সাবেক কাউন্সিলর জহুরুল আলম জসীম বলেন, আমি আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মী। সারা জীবন সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। মানুষ এটার মূল্যায়ন করেছে। আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছে। যাকে দল মনোনয়ন দিয়েছিল তাকে কয়েকগুণ বেশি ভোটে হারিয়েছি।’

বিজয়ী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কারের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল কেন্দ্র থেকে। বিজয়ী বিদ্রোহীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তও কেন্দ্র নেবে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। এছাড়াও নির্বাচনের পরে দলীয়ভাবে এখনও বসা হয়নি। সময় বলে দেবে সামনে কী সিদ্ধান্ত হয়।