জাতীয়

‘নৈতিক সমাজ’ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা

(Last Updated On: মার্চ ৩০, ২০২১)

নৈতিক জাগরণ, রাজনৈতিক সংস্কার, সাংবিধানিক সুশাসন, ন্যায়বিচার, দুর্নীতি রোধসহ সমাজের নানা পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে ‘নৈতিক সমাজ’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সাবেক মেজর জেনারেল ও রাজনীতিবিদ আ ম স আ আমিনকে সভাপতি করে ৫০ সদস্যের একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি জুমের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ ড. কামাল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এবং ড. আসিফ নজরুল ইসলাম ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি আব্দুস সালাম মামুন, সাবেক মেজর মুজিবুল হক, ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান, তফিজউদ্দিনসহ নৈতিক সমাজের কয়েকজন নেতা।

আ ম স আ আমিন ২০০১ সালে কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি গণফোরামে যোগ দিয়ে একই আসন থেকে নির্বাচন করেন। এবার নিজেই একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিলেন।

সভাপতি আমসাআ আমিন বলেন, দেশে ষাটের দশকের সে ঐক্য এখন আর নেই। জাতি আজ বিভক্ত। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের দেশপ্রেম, সততা ও আত্মত্যাগ পরবর্তী রাজনীতি ধরে রাখতে পারেনি। উন্নতি অনেক হয়েছে, কিন্তু উন্নতির সুফল সাধারণ মানুষ পায়নি। ধনী আরও ধনী হয়েছে, গরীব আরও গরীব হয়েছে, মধ্যবিত্তরা সঙ্কটে পড়েছে।

তিনি বলেন, চুরি, ঘুষ, দুর্নীতি, দুবৃত্তায়ন, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, হত্যা, মাদক ইত্যাদি মহামারির মতো দেখা দিয়েছে সর্বত্র। আইনের শাসনের দুর্বলতা ও বিচারহীনতা সমাজের বুনন ছিঁড়ে ফেলেছে। ৩০-৩৫ লাখ মামলায় জট, আরও বাড়ছে। সব অফিসে-দফতরে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সরকারি সেবা, হাসপাতাল, ব্যাংক, বাণিজ্য, ট্রাফিক, পুলিশ, প্রশাসন সবক্ষেত্রেই নৈরাজ্য বিরাজ করছে। ভূ-রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি জটিল হয়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে দল অনেক আছে, কিন্তু বেশিরভাগই সমস্যার অংশ। ৫০ বছরে তারা সমাধানের অংশ হতে পারেননি। নতুন দল ও মত প্রয়োজন। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে শক্তিশালী দল হিসেবে কাজ করতে চাই। যা সাধারণ মানুষের দল হবে।

আমসাআ আমিন আরো বলেন, সৎ, মেধাবী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের খুবই প্রয়োজন। এসব প্রয়োজন পূরণ করতেই নতুন দল হিসেবে নৈতিক সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। ২০২৩ সাল হবে নির্বাচনে প্রস্তুতির বছর।

নতুন দলটিকে স্বাগত জানিয়ে ড. কামাল হোসেন বলেন, জনগণ সৎ মানুষকে শ্রদ্ধা করে। নতুন প্রজন্মকে নৈতিকতা বোধের শিক্ষা দিতে হবে। নৈতিকতা ও সততাকে লালন করতে হবে। অসৎ মানুষ চিরস্থায়ীভাবে নেতৃত্ব দিতে পারেনি, পারবেও না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতার মৃত্যু হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক অত্যাচার হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের লোকেরাই এসব করেছে। নৈতিকতা বোধের অভাবে এসব হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সরকারি অফিসে হামলা কেনো হবে- এমন প্রশ্ন রেখে জাফরুল্লাহ বলেন, জনগণ জানে ২০১৮ সালে রাতের ভোটে এই অফিসের লোকজনই সহায়তা করেছেন। সেই ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। হেফাজতের কর্মীদের নিহতের ঘটনার সমালোচনা করেন তিনি। এ ছাড়া নৈতিক সমাজ দলটির প্রতি শুভকামনা জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, নতুন কিছু দেখলে আশান্বিত হতে চাই। সমাজ থেকে আমরা নৈতিকতা হারিয়ে ফেলেছি। নৈতিকতা না থাকলে কিছুই থাকে না। নৈতিকতা থাকলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো যায়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতা করার কারণে আন্দোলনকারী বাম সংগঠন ও নুরদের সংগঠনের কর্মীদের ওপর হামলা হয়। কেউ এর প্রতিবাদ করেনি বলে সমালোচনা করেন আসিফ নজরুল। তিনি আরো বলেন, হাটহাজারীতে হেফাজতের কর্মীরা থানার কাচ ভেঙেছিল, তাই তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। এটা কোনো আইনে আছে?

আসিফ নজরুল বলেন, হেফাজতকে কারা প্রশ্রয় দিয়ে এই জায়গায় এনেছে? বিএনপি, জামায়াত, বাম দলগুলোকে রাজনীতি করতে না দিয়ে কী বার্তা দেওয়া হচ্ছে? বিশ্বের কাছে দেখানো হচ্ছে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হচ্ছে হেফাজত, যারা মধ্যযুগীয় কায়দায় কথা বলে। সরকার হেফাজতের উত্থানের জায়গা করে দিয়েছে।