বিনোদন

প্রিয়াঙ্কার লুকোনো বিয়ে, বহু সম্পর্ক এবং জুনিয়র হত্যাকাণ্ড

(Last Updated On: জানুয়ারি ৭, ২০২১)

দেহটা পড়েছিলো রাস্তার ধারে। প্রথমে মনে হয়েছিলো দুর্ঘটনা। পরে তদন্তে জানা যায়, গুলি করে খুন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জুনিয়র মৃধা খুনের সেই ঘটনার ৯ বছর পর সোমবার (৪ জানুয়ারি) গ্রেপ্তার করা হলো তারই বান্ধবী প্রিয়াঙ্কা চৌধুরীকে। সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন প্রিয়াঙ্কা।

জুনিয়র খুনের তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ২০০৮ সালে ফেসবুকে জুনিয়রের সঙ্গে আলাপ হয় প্রিয়াঙ্কা চৌধুরীর। মডেল বলে নিজের পরিচয় দেন প্রিয়াঙ্কা। টালিউডের সিনেমা বা সিরিয়াল কোনো ক্ষেত্রেই প্রিয়াঙ্কার কোনো পরিচয় নেই। কিন্তু অনেক টলি-পরিচালক বা প্রযোজকের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার তথ্য পুলিশের হাতে রয়েছে।

ফেসবুকে আলাপ জমানোর পর পরই জুনিয়রের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করেন প্রিয়াঙ্কা। তাদের মধ্যে সম্পর্ক এতোটাই এগোয় যে জুনিয়রের পারিবারিক অনুষ্ঠানেও যাতায়াত শুরু করেন তিনি। কিন্তু পুলিশের দাবি, জুনিয়রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীনই আরো একাধিক ঘনিষ্ঠতায় প্রিয়াঙ্কা জড়িয়ে ছিলেন।

প্রিয়াঙ্কা ওরফে মুন তখন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন এক কর্তা তথা শিল্পপতির পূত্রবধূ। কিন্তু জুনিয়র বা তার পরিবারের কাছে নিজের বিবাহিত পরিচয় পুরোপুরি গোপন করে যান তিনি। প্রিয়াঙ্কা এবং জুনিয়রের মেলামেশাকে সামাজিক বন্ধনের পরিণতি দিতে আপত্তি ছিলো না। ওই সফ্টওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের। দু’জনের বিয়ের পরিকল্পনাও সেরে ফেলেছিলেন জুনিয়রের অভিভাবকরা।

মোবাইলের কল রেকর্ড দেখে এবং প্রিয়াঙ্কার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে কথা বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০১০ থেকে ২০১২ সাল টালিপাড়ার বেশ কয়েক জনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিলো। জুনিয়রের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকালীন তো বটেই, তার খুনের পরও সে সম্পর্ক ছিলো।

জুনিয়রের পরিবারের দাবি, বিয়ের পরিকল্পনার সময়ই টালিউডের এক উঠতি প্রযোজকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো প্রিয়াঙ্কার। তিনি নাকি সে বিষয়টি পুরোপুরি গোপন রেখেই জুনিয়রের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করতেন। তবে পরে তা জানাজানি হয়।

জুনিয়র খুন হওয়ার কয়েক মাস আগে আচমকাই প্রিয়াঙ্কার বিবাহিত পরিচয় জেনে যান জুনিয়রের বাড়ির লোকেরা। একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন শো-তে শাঁখা-সিঁদুর পরা প্রিয়াঙ্কাকে দেখে হতবাক হয়ে যান তারা। ওই অনুষ্ঠানে নিজের শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কে কথা বলছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ওই ঘটনার পর জুনিয়রের সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা।

তদন্তকারীদের দাবি, ২০১১ সালের ১২ জুলাই জুনিয়রের দেহ উদ্ধারের দিন তার সঙ্গে ২১ বার কথা হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার। কথা হয়েছিলো খুন হওয়ার কিছুক্ষণ আগেও। আবার ওই দিনই টালিগঞ্জের একাধিক প্রযোজক-পরিচালকের সঙ্গে প্রিয়াঙ্কার প্রায় দু’শো বার কথা হয়েছিলো বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।

২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জুনিয়র হত্যার তদন্তের ভার নেয় সিবিআই। প্রিয়াঙ্কার কল রেকর্ড খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে এই মামলায় বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে বলে জানাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

খুনের দিন এতোবার ফোনের বিষয়টা জোরাল সন্দেহ জাগায় তদন্তকারীদের মনে। প্রিয়াঙ্কাকে ডেকে জেরা চলতে থাকে। তবে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। রোববার (৩ জানুয়ারি) তৃতীয় বার সিবিআই অফিসে ডেকে জেরা হয়। ৮ ঘণ্টা জেরার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়েতে জুনিয়রের দেহ পাওয়া গিয়েছিলো। সেই খুনে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে আরো ২ বা ৩ জন জড়িত থাকতে পারে বলেও মনে হচ্ছে তদন্তকারীদের। প্রিয়াঙ্কাকে জেরা করে এখন সেই সন্দেহের জট খুলতে চাইছে সিবিআই। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।