স্বাস্থ্য

রেস্তোরাঁয় মিলছে স্যানিটারি ন্যাপকিন

(Last Updated On: মার্চ ৩০, ২০২১)

কর্মজীবী নারী বা শিক্ষার্থী ছাড়াও যে নারীদের বাইরে বের হতে হয়, এমন অনেকেরই অনিয়মিত মাসিকের ঝামেলায় বাইরে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন মাসিক শুরু হয়েছে। আবার অনেকের নিয়মিত মাসিক হলেও প্রস্তুতি ছাড়া বাইরে বের হয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি দিতে বিনা মূল্যে রেস্তোরাঁয় মিলছে স্যানিটারি ন্যাপকিন। অন্যদিকে ন্যাপকিন সেবা নেওয়ার জন্য রেস্তোরাঁয় খাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। নারীরা শুধু নিজেদের প্রয়োজনে রেস্তোরাঁয় ঢুকবেন, ওয়াশরুমে যাবেন, ন্যাপকিন সুবিধা নিয়ে বের হয়ে যাবেন।

এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মাসিক সুরক্ষা ব্যাংক’। সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজ সড়কের কাছে টেরাকোটা নামের একটি রেস্তোরাঁয় উদ্যোগটি যাত্রা শুরু করেছে। এ উদ্যোগের মূল উদ্যোক্তা সামাজিক সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষা। বিজ্ঞাপন

নন্দিতা সুরক্ষার প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি তাহিয়াতুল জান্নাত টেলিফোনে বলেন, হুট করে মাসিক শুরু হলে ঘরের বাইরে থাকা নারীদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এ সমস্যা দূর করতেই শহরের প্রাণকেন্দ্রে উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্টের আশপাশেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারগুলো অবস্থিত। শিক্ষার্থী ও নারীদের যাতায়াত বেশি এ এলাকায়।

তাহিয়াতুল জান্নাত জানালেন, রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি চুক্তি (ব্যবসায়িক কোনো চুক্তি নয়) সই হয়েছে। শুধু নারীদের ব্যবহারের জন্য ওয়াশরুমটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। রেস্টুরেন্টে কোনো নারী এলে তাঁর কী লাগবে, রেস্টুরেন্টের কর্মীরা এ ধরনের কোনো প্রশ্ন করবেন না। কেননা, এ ধরনের প্রশ্নেও অনেক নারী বিব্রত হতে পারেন। ওয়াশরুমটি আগে থেকেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নারীবান্ধব।

মাসিক সুরক্ষা ব্যাংক উদ্যোগ সম্পর্কে টেরাকোটা রেস্টুরেন্টের অন্যতম উদ্যোক্তা তানসীভ জোবায়ের রহমান বললেন, ‘নন্দিতা সুরক্ষার উদ্যোগটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রেস্টুরেন্টে ওয়েটারসহ তিনজন নারী কাজ করছেন। কর্মীদের অনেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, খণ্ডকালীন কাজ করেন তাঁরা। আমরা ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। মাসিক সুরক্ষা ব্যাংক চালুর পর অনেকে স্বাগত জানাচ্ছেন।

নন্দিতা সুরক্ষার তাহিয়াতুল জান্নাত স্নাতক পড়ছেন। তাঁরা সারা শরীর ধবধবে সাদা, মুখের কিছু জায়গা শুধু কালো বা তা অন্যদের মতো কালচে রঙের। তাহিয়ার চামড়ায় যে সমস্যা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে শ্বেতী রোগ বলা হয়। শ্বেতী ছোঁয়াচে রোগ নয়। এই রোগ সম্পর্কে কুসংস্কার ও ভুল ধারণা আছে মানুষের মধ্যে। তাহিয়াকেও ছোটবেলা থেকেই এ নিয়ে শুনতে হচ্ছে নানান কথা। তাই নিজেই মাঠে নেমেছেন এ অচলায়তন ভাঙতে। তিন বছর ধরে হাসি মুখ পাঠশালা নামে একটি পাঠশালা পরিচালনা করেছেন। এতে হরিজনপল্লির শিশুরা বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বিনা মূল্যে নারীদের আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ, শিশুদের শরীরে অনিরাপদ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতন করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাসিক সুরক্ষা ব্যাংক স্থাপনসহ নানান কাজের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছেন তাহিয়াতুল জান্নাত।

Hits: 19