জাতীয়

আরও বেশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

(Last Updated On: জানুয়ারি ১৭, ২০২১)

মানুষকে সঠিক ইতিহাস জানাতে আরও বেশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী আজ রোববার সকালে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯’ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সঠিক ইতিহাস যাতে সবাই জানতে পারে। কারণ, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী বীরের জাতি। সেই বিজয়ের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মনে রাখতে পারে, সেই ধরনের চলচ্চিত্র আরও নির্মাণ হওয়া দরকার।’

‘৭৫–এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে’—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রে শিল্প ও সংস্কৃতি যেমন থাকবে, তেমনি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপকরণও থাকতে হবে। পাশাপাশি সেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, নীতি-আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন থাকাটা দরকার।’

চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাজনীতিবিদেরা যত কথাই বলি না কেন, একটি নাটক, সিনেমা বা গান বা কবিতা দিয়ে অনেক কথা বলা যায় এবং মানুষের অন্তরে প্রবেশ করা যায়। মনের গহিনে প্রবেশ করা যায়। সে জন্য এর একটা আবেদন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম চলচ্চিত্র। অথচ এটি কিন্তু দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

২০১৯ সালে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন শিল্পী এবং কলাকুশলীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে পদক, রেপ্লিকা, সম্মাননার চেক এবং সনদ প্রদান করেন।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তারিক আনাম খান (আবার বসন্ত) এবং অভিনেত্রী হিসেবে সুনেরাহ বিনতে কামাল (ন ডরাই) ২০১৯ সালের এই পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রের জন্য জাহিদ হাসান (সাপলুডু) এবং শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে তানিম রহমান অংশু (ন ডরাই) পুরস্কার লাভ করেন এবং যৌথভাবে ‘ন ডরাই’ এবং ‘ফাগুন হাওয়ায়’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মনোনীত হয়। মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা এবং কোহিনুর আক্তার সুচন্দা আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তথ্যসচিব খাজা মিয়া স্বাগত বক্তৃতা করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে আজীবন সম্মাননা বিজয়ী মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউসসহ গণভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার কাছে কালিয়াকৈরের কবিরপুরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি’ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে আধুনিক সিনেমা তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন, সেই ধরনের সব সুবিধা রাখা হচ্ছে। যাতে আমাদের সিনেমাশিল্পটা যেন উপযুক্ত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, কেননা এখন ডিজিটাল যুগ। আমাদের চলচ্চিত্র কেবল দেশে নয়, বিদেশেও যাতে যেতে পারে, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সেন্সরসংক্রান্ত আইন ও বিধি আধুনিকভাবে তৈরি এবং সেগুলো কঠোরভাবে যেন মানা হয়, সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড আমরা তৈরি করব। যেখান থেকে অল্প সুদে টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্স তৈরি করতে পারবে। যাতে ওই অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থাটা হয়।’

তেজগাঁও আসনের সংসদ সদস্য থাকার সময় তিনি বিএফডিসির সড়কটি নির্মাণ করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এর কাছেই থাকা কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারও ধীরে ধীরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। কাছেই থাকা হাতির ঝিলসহ আশপাশের এই এলাকাটাকেও সরকার সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চায়। তিনি বলেন, ‘এ জন্য ৩২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের বিএফডিসি কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।’

পুরস্কার বিতরণ এবং আলোচনা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্রশিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই শিল্প নষ্ট হয়ে যাক, কখনো সেটা আমরা চাই না। আমাদের দর্শক টানতে হবে। মানুষ যাতে সিনেমা দেখে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখা যায়, তেমন সিনেমা যেমন তৈরি করতে হবে, তেমনি শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণটাও একান্তভাবে জরুরি। কারণ, এর মাধ্যমেই একটি শিশু তার জীবনটাকে দেখতে পারবে এবং আগামীর জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারবে।

এই শিল্পের আধুনিকায়নে যা যা দরকার, তাঁর সরকার সবকিছুই করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে বলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘আমি তো রয়েছিই সব সময় আপনাদের পাশে। কেননা এই এফডিসি আমার বাবার হাতে গড়া এবং এই সিনেমা তৈরির উৎসাহ তিনি নিজেই দিয়েছিলেন। কাজেই সেটি মাথায় রেখেই আমি সব সময় কাজ করি।’

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিল্পের সব মাধ্যমকে একত্র করে যে শিল্প, সেটাই চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্র শুধু জীবনের কথাই বলে না, এটি সমসাময়িক কালকে সংরক্ষণ করে এবং যেই সময়ে নির্মিত হয়, সেই সময়ের সমাজচিত্রকে পরিস্ফুটন করে।