জাতীয়

চাকরির আশায় ‘জমের’ হাতে ছেলেকে তুলে দিয়েছিলেন বাবা!

(Last Updated On: এপ্রিল ৩, ২০২১)

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী ধরঞ্জি ইউনিয়নের নন্দইল গ্রামের সাগর ইসলাম (২৫) প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দেওয়ার ঢাকায় গিয়ে লাশ হয়েছেন। শুক্রবার পাঁচবিবি থানা পুলিশের মাধ্যমে বাবা আব্দুর রশিদ জানতে পারেন তার ছেলেকে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাও থানা পুলিশ বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে দাফন করেছে। আর এ খবর শুনে পাগল প্রায় বাবা আব্দুর রশিদ। মা আলেয়া বেগমও বাকরুদ্ধ হয়ে আছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পাঁচবিবি উপজেলার উচনা গ্রামের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফের মাধ্যমে একই উপজেলার হরেন্দা গ্রামের গোলাম রসুল মাস্টার, আব্দুল আলিম এবং জয়পুরহাট পৌর শহরের রবির সঙ্গে পরিচয় হয় আব্দুর রশিদের। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে আব্দুর রশিদের ছেলে সাগরকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিবে মর্মে ৯ লাখ টাকা চুক্তি করে তারা। চুক্তি অনুযায়ী ছেলের চাকরির আশায় আব্দুর রশিদ তাদের সাত লাখ টাকা দেন। বাকী দুই লাখ নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেবেন বলে জানান।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা ফোনে রশিদকে জানান, তার ছেলের নিয়োগপত্র হয়েছে। বাকি টাকা নিয়ে ঢাকায় আসতে বলেন তারা। তাদের কথায় গত ২৩ মার্চ ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় যান রশিদ। পরদিন ঢাকার কালসি নামকস্থানে রশিদের হাতে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাঅধিদপ্তরসহ অঙ্গ বাহিনী সংস্থা সমূহের সাংগঠনিক কাঠামোভূক্ত একটি ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করেন প্রতারকরা। ছেলের নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে চুক্তির বাকি টাকা প্রদান করেন বাড়ি ফেরেন তিনি।

এদিকে গত ২৫ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনাগাঁও থানা পুলিশ বৈদ্যরবাজার-বারদী সড়কের খংশারদীর ব্রিজের নিচ থেকে অজ্ঞাতনামা লাশ হিসাবে সাগরকে উদ্ধার ও লাশের ময়নাতদন্ত পূর্বক দাফন করে। এ সময় পুলিশ বাদী হয়ে সোনাগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে লাশের সঙ্গে থাকা মোবাইল সিমের এনআইডি নম্বর সূত্রে সোনারগাঁও থানা পুলিশ নিহতের পরিচয় সনাক্ত করেন এবং পাঁচবিবি থানায় জানান।

সোনাগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ২৫ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টায় স্থানীয় লোকদের খবরের ভিত্তিতে ওই যুবকের লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলো বলে শুনেছি। পরে নারায়ণগঞ্জে তার লাশটি অজ্ঞাতনামা হিসাবে উদ্ধার করে সোনারগাঁও থানা পুলিশ।