জাতীয়

রিসোর্টে অবরুদ্ধ মামুনুলকে নিয়ে গেল হেফাজত

(Last Updated On: এপ্রিল ৪, ২০২১)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানে গতকাল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে এক নারীসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখার পর হেফাজতের অসংখ্য নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হয়ে ভাঙ্চুর চালায় এবং একপর্যায়ে তারা তাদের নেতাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেনের দাবিÑ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মামুনুল হক ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাওলানা মামুনুল হক এক নারীসহ রয়্যাল রিসোর্টে এলে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের অবরুদ্ধ করেন। হেফাজত নেতাকর্মী ও তার সমর্থকরা অবরুদ্ধ হওয়ার সংবাদ পেয়ে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে ওই রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। এ সময় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিকুল ইসলাম, এসিল্যান্ড গোলাম মোস্তফা মুন্না, নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) টিআই মোশাররফ হোসেন, সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) তবিদুর রহমানসহ অর্ধশতাধিক সাংবাদিক। পরে মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে যান হেফাজতকর্মীরা।

এর আগে বিকাল থেকেই মাওলানা মামুনুল হককে ওই রিসোর্টে অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান প্রশাসনের কর্তাব্যক্তি, পুলিশসহ সাংবাদিককরা।
আটকাবস্থা থেকে ছাড়া পেয়ে উপজেলার মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকার হাবিবপুর ঈদগাহ মাঠে মাওলানা মামুনুল হক কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে সোনারগাঁওয়ে বেড়াতে এসে রিসোর্টে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু সাংবাদিক আমার সঙ্গে আলাপ করছিলেন। পরে থানার ওসি আসেন। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে কিছু লোক বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রচার করেছে। এ সময় তিনি উত্তেজিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বিশৃঙ্খলা করবেন না। এমনিতেই গত কয়েক দিনের কর্মসূচিতে সারাদেশে উত্তেজনা বিরাজ করছে, যা আশঙ্কা করেছিলাম, তাই হলো। আপনারা বিশৃঙ্খলা না করে যার যার গন্তব্যে যান।

মামুনুল হকের এ বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরই মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন হেফাজতের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। একই সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়েও অগ্নিসংযোগ করা হয়। উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন যানবাহনে ভাঙচুর চালানো হয়।

সোনারগাঁও রয়্যাল রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি হেফাজতের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এর পর মামুনুল হক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলি। কথা বলে জানতে পারি তিনি স্ত্রীর সঙ্গে এখানে এসেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের চলে যেতে দিই।’
এদিকে রাতে ফেসবুক পোস্টে মামুনুল হক বলেন, আমি নিরাপদে আছি। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। কেউ কোনো গুজবে বিভ্রান্ত হবেন না।

মামুনুল হক বলেন, মাস্তান প্রকৃতির লোকেরা এসে আমাকে ওয়াইফসহ নাজেহাল করেছে। আক্রমণ করেছে। আমার বক্তব্য পরিষ্কার আমরা এখানে একটু রিফ্রেশমেন্টের জন্য এসেছিলাম। অনেক উচ্ছৃঙ্খল লোক এসেছে। আপনারা দেখেছেন। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
এদিকে রাত ৮টার দিকে হেফাজত ইসলামের নেতাকর্মী-সমর্থকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও মোগড়াপাড়া চৌরাস্তায় অবস্থান নিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে রাখেন।