জাতীয়

সন্তানদের সামনে মাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

(Last Updated On: জানুয়ারি ১২, ২০২১)

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের মালিরচালা গ্রামে চুরি করার অপরাধে আদিবাসী মাকে সন্তানদের সামনে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (১০ জানুয়ারি) পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (৯ জানুয়ারি) ওই গ্রামের আদিবাসী নারায়ন বর্মণের স্ত্রী সন্ধ্যা রানীকে (৩৫) গাছে বেঁধে নির্যাতন করে প্রতিবেশী মনিরুল ইসলামসহ পরিবারের লোকজন।

মামলার আসামিরা হলেন- মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া (৮০) মোস্তফা ভূঁইয়া (৪৫), সজিব ভূঁইয়া (৪০), খুকি (৩৭) ও সুমি আক্তার (৩২)।

জানা যায়, ঘটনার ১৫ দিন আগে সন্ধ্যায় সন্ধ্যা রানীর ছোট ছেলে পলাশ (৮) প্রতিবেশী মনিরুল ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানানোর জন্য পত্রিকা নিয়ে আসে। পরে সেই ঘুড়ি বানিয়ে মনিরুলের বাড়ির সন্তানদের সঙ্গে উড়ায়।

ওইদিনই মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকাসহ মূল্যবান কাগজপত্র চুরি যায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার জেরে ৩ জানুয়ারি শিশু পলাশকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয় এবং মায়ের কাছে চুরির জিনিসপত্র আছে এ স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়।

এরপর ৯ জানুয়ারি মনিরুলের দুই বোন খুকি (৩৭) ও সুমি আক্তার (৩২) সন্ধ্যা রানীকে বাড়ির পাশের একটি গাছে বেঁধে রাখে। এ সময় মনিরুল ভূঁইয়া, তার দুই ছেলে ও দুই বোন মিলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী মহানন্দ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা সন্ধ্যা রানীকে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার ছয় মাসের শিশু মায়ের বুকের দুধের জন্য কান্না করলেও তাতে লাভ হয়নি।

মামলার আসামি মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আমার ছোট বোনের গহনা চুরি করে সন্ধ্যা রানীর ছেলে পলাশ। চুরি করা গহনা তার মায়ের কাছে জমা দেয়। বারবার চাইলেও তারা দেয়নি। তাই ছোট বোন সুমি তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখেছিল।

সাগরদিঘী ইউপি চেয়ারম্যান হেকমত সিকদার বলেন, চোর সন্দেহে মাকে গাছে বেঁধে রাখার খবর পেয়ে লোক পাঠিয়ে ও পুলিশের সহযোগীতায় ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

তিনি বলেন, স্বর্ণালঙ্কার হারানোর বিষয়টি ইউপি মেম্বার বা চেয়ারম্যানকে অবগত না করে, বিচার নিজের হাতে নিয়ে তারা ঠিক করেনি।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন, ১০ জানুয়ারি রাতে নির্যাতিতা সন্ধ্যা রানী নিজে বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং বলেন, এটি অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘন। সাধারণত গরীব অসহায় আদিবাসীদের ওপর সমাজের ধনী মানুষগুলো জুলুম অত্যাচার করে নোংরা আনন্দ পায়। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।