খেলা

ক্রিকেটে সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফাস্ট বোলার বুমরাহ: শোয়েব

(Last Updated On: জানুয়ারি ২, ২০২১)

পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতার বলে দিলেন, বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটে সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফাস্ট বোলার জশপ্রীত বুমরাহ। শুধু তা-ই নয়, রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস এমন কথাও বলেছেন যে, একটা সময়ে পাকিস্তানের বোলারদের যেটা গোপন অস্ত্র ছিলো, তা এখন এসে গিয়েছে বুমরাহর হাতে। হাওয়াকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের কীভাবে বোকা বানানো যায়, তা শিখে ফেলেছেন বুমরাহ। যা কি না পাকিস্তান পেসারদের গোপন অস্ত্র ছিলো।

বিশ্ব ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তান থেকে দুর্ধর্ষ সব ফাস্ট বোলার বেরিয়েছে। ইমরান খান, সরফরাজ় নওয়াজ়, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, শোয়েব আখতারেরা আগুন ঝরিয়েছেন বিশ্বের সব প্রান্তে। আর সেই সময়ে ভারতের হাতে ছিলো শুধুই একজন কপিল দেব।

পরবর্তীকালে জাভাগল শ্রীনাথ, জাহির খানেরা এসেছেন। কিন্তু কখনই পাকিস্তান পেস বোলিংকে টেক্কা দিতে পারেনি ভারত। যা এখনকার বুমরাহ, শামি, ইশান্তরা দিচ্ছেন। ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম বোলারদের একজন, শোয়েব সবচেয়ে মুগ্ধ বুমরাহকে নিয়ে।

বলেছেন, মাত্র পাঁচ সেকেন্ডে ছোট্ট একটা রান-আপ নিয়ে বুমরা ধ্বংস করে দিতে পারেন যে কোনো ব্যাটসম্যানকে। এমনই সেই রান-আপ আর বোলিং অ্যাকশন যে, সমালোচকেরা নাকও কুঁচকেছে।

একটি ইউটিউব চ্যানেলে শোয়েব বলেন, বুমরাই সম্ভবত প্রথম ভারতীয় পেসার যে, উইকেটে কতোটা ঘাস আছে তা পরীক্ষা করার আগে দেখে নিতে চায় হাওয়া কতোটা জোরে বইছে বা কোন দিকে বইছে। এটা আমরা, পাকিস্তানের ফাস্ট বোলাররা করতাম। আমরা জানতাম, হাওয়া নিয়ে কী করে খেলা করা যায়।

সাবেক পাক পেসার যোগ করছেন, আমরা সত্যিই হাওয়ার গতি এবং গতিপথ মেপে বল করতাম। ওয়াসিম, ওয়াকার, আমি বোঝার চেষ্টা করতাম, হাওয়া কীভাবে বইছে। সেই অনুযায়ী ঠিক করতে হতো, কোন প্রান্ত দিয়ে বল করলে আমরা রিভার্স সুইং পেতে পারি।

আরো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শোয়েব বলেন, বল সুইং করার পিছনে যে বিজ্ঞানটা রয়েছে, হাওয়ার ব্যবহার কীভাবে করতে হবে, সে সব বুঝে আমরা বল করার চেষ্টা করতাম। সেই কারণে হাওয়া কাজে লাগিয়ে আমরা সুইং পেতাম। আমার দেখেশুনে মনে হচ্ছে, বুমরাহ এই জিনিসগুলো জানে। হালফিলে বিশ্বের আর কোনো বোলারকে দেখে আমার মনে হয়নি, তারা এতো কিছু জেনেবুঝে বল করে।

বুমরাকে নিয়ে শোয়েবের প্রশংসা এখানেই থামছে না। আরো বলেছেন, মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরের পরে আমার দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত বোলার বুমরাহ।

মাত্র সাতটি পদক্ষেপ রয়েছে বুমরার রানআপে। জগিংয়ের মতো পায়ে-পায়ে এগিয়ে একেবারে শেষ মুহূর্তে দৌড়ে বল করেন। তার উপর অন্য রকমের প্যাঁচানো অ্যাকশন। যা নিয়ে সমালোচকেরা সরব হয়েছেন, বেশি দিন এমন রান-আপ, অ্যাকশনে বল করে যেতে পারবেন না বুমরাহ।

কিন্তু শোয়েব বলছেন, বুমরাহর পৃথিবীতে ওই পাঁচ সেকেন্ডে শুধু ব্যাটসম্যানকে কীভাবে ঘায়েল করা যায়, সেই চিন্তাই রয়েছে। এক মনে ও সেটাই ভাবে। ওকে দেখে মনে হয়, মাথায় রয়েছে শুধুই কীভাবে উইকেট তুলবো।