বিনোদন

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে শেখ হাসিনার চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া

(Last Updated On: জানুয়ারি ২৩, ২০২১)

এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে অডিশন দেন নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। আশা ছবিতে বুয়ার চরিত্রে হলেও কাজ করবেন। কিন্তু দিনশেষে নির্বাচিত হন অন্যতম প্রধান শেখ হাসিনার চরিত্রে। যা ফুটিয়ে তুলতে এখন দিন-রাত অনুশীলনে ব্যস্ত তিনি। ক্যারিয়ারে প্রথম ছবিতেই নায়ক হিসেবে পেয়েছিলেন কলকাতার অঙ্কুশকে। আর তাই এপার বাংলায় তো বটেই ওপার বাংলাতেও পরিচিত নুসরাত ফারিয়া। ছয় বছরের সিনেমা জীবনে ৯ ছবিতে ফারিয়া পর্দায় এসেছেন নানা রূপে। এবার হলেন শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে তাকে যাবে তাকে। প্রধানমন্ত্রীর তরুণী বয়সের চরিত্রে দেখা যাবে ফারিয়াকে। এ সিনেমার চিত্রায়ণে অংশ নিতে ৫ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের উদ্দেশ্য রওনা হবেন ফারিয়া। সম্প্রতি শেখ হাসিনার সাথে দেখা করেছেন বঙ্গবন্ধু ছবির কুশলীরা।

সম্প্রতি সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। জানিয়েছেন শেখ হাসিনা চরিত্রে নিজের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন তথ্য। ফারিয়ার ইচ্ছা ছিল, এ সিনেমায় ছোট্ট চরিত্রে অভিনয় করে হলেও ইতিহাসের হওয়ার। তার ভাষায়, যদি বুয়ার চরিত্রও পেতাম তাহলেও আমি করতাম।

অডিশনে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে ফারিয়া বলেন, ২০১৯ সালের মার্চ বা এপ্রিল। মুম্বাইতে আমার গানের শুটিং করছিলাম। ফোনে অডিশনের খবর জানানো হয়েছিল, তখন কলকাতায় ছিলাম। আমার অডিশন ছিল প্রথম দিন সকাল আটটায়। প্রথম লটেই আমার অডিশন হয়েছে। তখন বলল, কিছু দেওয়া যাবে না। মুখটা ধুয়ে আসেন। মুখ ধুয়ে আমি জাস্ট ঢুকলাম আর শ্যাম বেনেগালকে সামনাসামনি দেখতে পেলাম। তারপর আমাকে ডায়লগ দেওয়া হলো, আমি অডিশন দিলাম।

অডিশন দিয়ে অভিনেত্রী চলে গিয়েছিলেন ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমার শুটিংয়ে। সেখানে থাকা অবস্থায় জানতে পেরেছেন শেখ হাসিনা চরিত্রে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। চূড়ান্ত হওয়ার খবরে চিৎকার করে ওঠেন ফারিয়া।

তার ভাষায়, ফোনে সুখবরটি শোনার পর চিৎকার করে উঠেছিলাম। আমার চিৎকার কে শোনে। আমার মনে হয় সুন্দরবনের গাছপালা আর পশু-পাখির সেই আনন্দ-চিৎকারের কথা মনে থাকবে।

কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন? উত্তরে ফারিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে অনেক বিষয় জানতে পেরেছি। গওহর রিজভী স্যার অনেক বিষয়ে সাহায্য করেছেন। রিসার্চ টিম থেকেও সহায়তা পেয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিনি প্রচণ্ড অমায়িক একজন মানুষ। তিনি সবার সঙ্গে কথা বললেন। সবার চরিত্রের ছোট-ছোট অনেক কিছু বুঝিয়ে দিলেন। বিস্তারিত গল্প করলেন। কিন্তু যখনই আমি তার ব্যাপারে তাকেই জিজ্ঞেস করলাম, তিনি এত লজ্জা পেলেন! প্রধানমন্ত্রী একজন অসাধারণ মানুষ।’

নুসরাত ফারিয়া জানান, তিনি দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো কি না, সেটা এই সিনেমায় খুব গুরুত্বপূর্ণ না। কারণ চরিত্রটি যতটুকু না চেহারার, তার চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিত্বের। তাই তাকে কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চেহারা মিলিয়ে দেখতে হয়নি।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্রের শ্যুটিং শুরু হয়েছে ভারতের মুম্বাইতে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র খবর আনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের দাদাসাহেব ফালকে চিত্রনগরীতে ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রযোজনার এ চলচ্চিত্রের মহরত অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

কে ছিলেন শেখ মুজিব

শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বলা হয়। তিনি দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামের একমাত্র লক্ষ্যই ছিল তার দেশের মানুষের জন্য স্বাধীনতা এনে দেয়া। তার এই অবিচল সাধনার পথে তিনি প্রতিমুহূর্তে সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। মূলত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের একটি অংশ হিসেবেই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রয়াস।

কারা কোন চরিত্রে

যেহেতু সিনেমাটি বাংলা ভাষায় নির্মিত হচ্ছে, পরিচালক শ্যাম বেনেগাল তাই ছবির কলাকুশলী নির্বাচনে এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা আরিফিন শুভ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করবেন, নুসরাত ইমরোজ তিশা অভিনয় করবেন শেখ ফজিলাতুন্নেসার ভূমিকায়। নুসরাত ফারিয়াকে শেখ হাসিনার চরিত্রে দেখা যাবে এবং অন্যান্যদের ভেতর তৌকীর আহমেদ পর্দায় হাজির হবেন সোহরাওয়ার্দীরূপে।

চলচ্চিত্র বঙ্গবন্ধু

ভারতের ৫১ তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব উদ্বোধনকালে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণের ঘোষণা দেন।

তিনি এ উদ্যোগকে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে নিবিড় সহযোগিতার উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করেন। অতুল তিওয়ারি ও শামা জায়েদী ছবির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন; আর সংগীতে থাকছেন শান্তনু মৈত্র।

ছবিটির দ্বিতীয় পর্বের শুটিং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে; যেখানে মুক্তিবাহিনীর (বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী) স্বাধীনতার সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হবে।