জাতীয়

সাঈদ খোকনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারের দাবি

(Last Updated On: জানুয়ারি ১১, ২০২১)

আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের পদ থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের পদত্যাগ দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা।

রোববার (১০ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়ায় আইনজীবীরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। সমাবেশের পরে তারা একটি মিছিল বের করেন।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. মোমতাজ উদ্দিন মেহেদী। সঞ্চালনা করে আইনজীবী একেএম তৌহিদুর রহমান।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন-পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হুমায়ুন কবির, ব্যারিস্টার মো. সাজ্জাদ, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, সুপ্রিম কোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের উদ্দিন ভূঁইয়া, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মফিজ উদ্দিন, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হাসিনা মমতাজ, নূরে আলম উজ্জ্বল, তাসনিম সিদ্দিকী লিনা, শামীম সরদার, মোছা পরভীন আক্তার, ঢাকা দক্ষিণের আওয়ামী আইন বিষয়ক উপদেষ্টা জগলুল কবির, আবুল কালাম আজাদ, শেখ মোহাম্মদ মাজু, মো. ফরাজি, আব্দুর রাজ্জাক রাজু, অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্জ, মহি উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, সাঈদ খোকন একজন ব্যর্থ মেয়র হয়েও আধুনিক ঢাকার স্বপ্নদ্রষ্টা ফজলে নূর তাপসকে নিয়ে মিথ্যাচার শুরু করেছেন। তার এমন বক্তব্যের কারণে আমরা তার বাড়ি ঘেড়াও করবো। একজন যোগ্য বাবার সন্তান হয়েও তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। সিটি নির্বাচনে যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়, আবেগের ভিত্তিতে তিনি নমিনেশন ভিক্ষা চেয়েছিলেন। উনার কোনও লজ্জাই নেই। মূলত তার (সাঈদ খোকন) বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে, সেখান থেকে বাঁচার জন্যই তিনি ব্যারিস্টার তাপস সম্পর্কে বিভ্রান্তকর বক্তব্য দিচ্ছেন। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

গতকাল শনিবার ( ১০ জানুয়ারি) এক মানববন্ধনে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন ডিএসসিসি’র টাকা হস্তান্তরসহ নানা অভিযোগ তোলেন শেখ তাপসের বিরুদ্ধে।

সাঈদ খোকন বলেন, তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তাঁর নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকের স্থানান্তরিত করেছেন এবং এই শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসেবে গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, অর্থের অভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গরিব কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

এসব কর্মকাণ্ডের ফলে মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন তাপস বলেও মন্তব্য করেন সাঈদ খোকন।

মানববন্ধনে সাঈদ খোকন বলেন, ‘দক্ষিণ সিটির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস তার পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। মেয়র তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলব, রাঘব-বোয়ালদের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। তারপর চুনোপুঁটির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সাঈদ খোকনের এসব বক্তব্যের প্রসঙ্গে রোববার (১০ জানুয়ারি) সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেন, কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে কোনো কিছু বলে থাকেন, সেটার জবাব আমি দায়িত্বশীল পদে থেকে দেওয়াটা সমীচীন মনে করি না। তাছাড়া এসব বক্তব্য কোনো গুরুত্ব বহন করে না।