জাতীয়

পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকায় মৃত ব্যক্তিও!

(Last Updated On: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১)

সম্মেলনের ১৪ মাস পর চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম। এর আগে ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে এম এ সালাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং শেখ আতাউর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে ৭৫ সদস্যের অনুমোদিত এই কমিটিতে মো. আলী খসরু নামে মৃত এক ব্যক্তির নামও রয়েছে। যা নিয়ে ‘পদবঞ্চিত’ নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কানাঘুষা চলছে।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম বলেন, ‘সম্মেলনের পরেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেওয়া হয়েছিল। আমরা যে কমিটি জমা দিয়েছিলাম, সেটিরই অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। আগামী তিন বছর মেয়াদে এই কমিটিতে সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সম্পাদকীয় পদে আছেন ৩৯ জন এবং ৩৬ জনকে সদস্য করা হয়েছে।’

জানা যায়, অনুমোদিত কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে ১১ জনকে। তারা হলেন- অধ্যাপক মো. মঈনুদ্দিন, অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন, মহিউদ্দিন আহমেদ রাশেদ, আবুল কালাম আজাদ, মো. রফিকুল ইসলাম, এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম, আফতাব উদ্দিন চৌধুরী, আবুল কাশেম চিশতী, এহেসানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, স্বজন কুমার তালুকদার ও জসীম উদ্দিন।

যুগ্ম সম্পাদক রাখা হয়েছে তিন জন। তারা হলেন যথাক্রমে নুরুল আনোয়ার চৌধুরী, দেবাশীষ পালিত ও জসিম উদ্দিন শাহ। সাংগঠনিক সম্পাদক রাখা হয়েছে ৩ জন। তারা হলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ খদিজাতুল আনোয়ার সনি, মো. মহিউদ্দিন বাবলু ও নজরুল ইসলাম তালুকদার।

পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন আফতাব খান অমি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক প্রদীপ চক্রবর্তী, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেবুন নেছা জেসি (সন্দ্বীপ), দপ্তর সম্পাদক নুর খান, উপ-দপ্তর সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. আলী শাহ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার প্রিয়াংকা আহসান প্রিয়া, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক জাফর আহমদ, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নাজিমুদ্দিন তালুকদার, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক আবু তালেব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়ন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জি. মেজবাহ উল আলম লাভলু, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আলাউদ্দিন সাবেরী, শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ইঞ্জি. মো. হারুণ, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. সেলিম, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মহসীন জাহাঙ্গীর, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস আজগর, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শাহজাহান সিকদার এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. মোস্তফা।

এছাড়াও কমিটিতে ৩৬ জনকে কার্যনির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন- রাউজানের সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, সন্দ্বীপের সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি, মো. গিয়াস উদ্দিন, ইউনুচ গনি চৌধুরী, বেদারুল আলম চৌধুরী, নুরুল আলম চৌধুরী, মো. আবুল বশর, ডা. শেখ শফিউল আজম, শওকত আলম, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, শাহনেওয়াজ চৌধুরী, ইঞ্জি. মাহবুবুর রহমান রুহেল, কাজী মো. ইকবাল, মো. ইদ্রিস, ইফতেখার হোসেন চৌধুরী বাবুল, দিদারুল আলম বাবুল, মো. আলী খসরু, আফতাব হোসেন খান, ডা. নুরুদ্দিন জাহেদ, রুস্তম আলী, মহিউদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, সরওয়ার হাসান জামিল, মো. সেলিম উদ্দিন, শাহেদ সরওয়ার শামীম, ভূপেশ বড়ুয়া, সরওয়ার্দী সিকদার, গোলাম রব্বানী, ফেরদৌস হোসেন আরিফ, আবদুল হালিম, রাজিবুল হাসান সুমন, বখতিয়ার সাঈদ ইরান, হাসিবুল সোহাদ চৌধুরী শাকিব, আফতাব উদ্দিন মাহমুদ পারভেজ ও মনজুর মোরশেদ ফিরোজ।

এদিকে ৭৫ সদস্যের অনুমোদিত এই কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যে মো. আলী খসরু নামে মৃত এক ব্যক্তির নামও রয়েছে। এ নিয়ে ‘পদবঞ্চিত’ নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কানাঘুষা চলছে। যদিও কমিটির নির্বাচিত সভাপতি এম এ সালাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কেন্দ্রে তালিকা জমা দেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। তিনি সন্দ্বীপ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওনার প্রতি সম্মান জানিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো তালিকা থেকে আমরা বাদ দিইনি। এখন একটি সভা করে আমরা সন্দ্বীপ থেকে একজন সদস্য নিযুক্ত করব।’

২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি পদে এম এ সালাম ২২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী পান ১২৯ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে শেখ আতাউর রহমান পান ১৯৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গিয়াস উদ্দিন পান ১৫৪ ভোট। এর আগে দীর্ঘ ২৭ বছর উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন এম এ সালাম। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানেরও দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ উত্তর জেলার সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালে। তখন কমিটিতে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতি ও এম এ সালামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হলে সহ-সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে সভাপতি থাকাবস্থায় নুরুল আলম চৌধুরী মারা যান। তখন বছরখানেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সাংসদ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী।