জাতীয়

লকডাউনের খবরে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ

(Last Updated On: এপ্রিল ৪, ২০২১)

লকডাউন শুনেই রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। আগামী সোমবার থেকে লকডাউন শুরুর ঘোষণা জানার পর শনিবার বিকেল থেকে ভিড় বেড়ে যায় বাস টার্মিনালগুলোতে। লকডাউনে কর্মহীন হয়ে পড়া এবং আগেভাগে না গেলে আটকা পড়ার ভয়ে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন।

শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এরপর থেকেই নগরজীবনে এক ধরনের চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বাজার-সদাই করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। যাদের ঢাকার বাইরে যাওয়ার চিন্তা রয়েছে, তারা সেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এক সপ্তাহের কথা বলা হলেও লকডাউনের সময় আরও দীর্ঘ হতে পারে।

লকডাউনে যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে না বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। গত বছরের মতোই লকডাউনে শুধু পণ্যবাহী মালগাড়ি চলবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রজ্ঞাপনে ঠিক যতদিনের জন্য লকডাউন জারি হবে, ততদিনই যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে না।

লকডাউনে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে নাকি সীমিতভাবে চলাচল করবে- এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে। সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহর বক্তব্যও ছিল একই রকম।

গত বছর করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় ২৫ মার্চ সাধারণ ছুটি শুরু হয়। বন্ধ হয়ে যায় গণপরিবহন। ৬৮ দিন পর ১ জুন থেকে যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচল শুরু হয়। বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের মতো এবারও লকডাউনে সব ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে পণ্যবাহী যান চলাচল করতে পারবে। পণ্যবাহী যানে যাত্রী বহন নিষিদ্ধ থাকবে।

গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে-এ শঙ্কায় শনিবার বিকেলের পর রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী টার্মিনালের দিকে মানুষের ঢল নামে। মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা যায় বাস কাউন্টারগুলোর সামনে টিকিটের জন্য যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। রাত পর্যন্ত একই অবস্থা ছিল। করোনা সংক্রমণ রোধে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বিভিন্ন পরিবহনের বাস মহাখালী ছেড়ে যায়। তবে বাকি লোকাল বাসগুলোর অধিকাংশ সব আসনেই যাত্রী নিয়ে চলছে। ভিড়ের চাপে কোনো কোনো বাসে দাঁড়িয়ে যাত্রী নিতেও দেখা গেছে।

ভিড় ছিল সদরঘাটেও। সন্ধ্যার পর রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের ঢল নামে লঞ্চ টার্মিনালে। তবে ভিড় কম ছিল কমলাপুর স্টেশনে। আসনের অর্ধেক টিকিট দেওয়া হচ্ছে ট্রেনে। বন্ধ রয়েছে স্ট্যান্ডিং টিকিটও। সে কারণে কমলাপুরে যাত্রী বাড়লেও ভিড়ের চাপ তীব্র ছিল না।

এদিকে রাজধানীর গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তি আগের মতোই রয়েছে। বাসে বর্ধিত ভাড়ার চেয়েও অনেক বেশি ভাড়া আদায় অব্যাহত রাখার অভিযোগ করেছেন অনেকেই। ঢাকার পথে যে পরিবহন বাস চলছে, তা যাত্রীর চাপ সামাল দিতে পারছে না। শনিবার ছুটির দিনেও বহু মানুষকে রাস্তায় বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। লকডাউনের ঘোষণা শোনার পর অনেকেই বাইরে বের হন জরুরি প্রয়োজনগুলো সেরে নিতে। ফলে হঠাৎ করে যাত্রীর সংখ্যাও বেড়ে যায়। দুর্ভোগের এ চিত্র রোববার আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

Hits: 3